শীর্ষ ধনী ক্লাব ম্যানসিটি, সেরা দশে নেই বার্সেলোনা

0
5

ক্রীড়াঙ্গন রিপোর্ট :
সব ক্লাবকে পিছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্লাবের মর্যাদা পেল ম্যানচেস্টার সিটি। মজার ব্যাপার হলো, তালিকার সেরা দশের বাইরে রয়েছে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনা।
তালিকার শীর্ষ ২৫-এ স্থান পেয়েছে বিশ্বের পৃথক ৯টি দেশের ক্লাব। ক্রীড়া বিষয়ক অপর সমীক্ষা প্রতিষ্ঠান ডিলয়েট-এর সর্বশেষ ধনী ক্লাবের তালিকায় এক নম্বরে স্থান পায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ ছিল তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে। ওই তালিকার শীর্ষ ২০-এ নাম ছিল না ম্যানচেস্টার সিটির। তবে সকারেক্স-এর সমীক্ষায় বিবেচনা করা হয়েছে ক্লাবের মোট স্থায়ী সম্পদ, ঋণের পরিমাণ, দলের খেলোয়াড়দের বাজারদর, ব্যাংকে স্থায়ী অর্থ তহবিল ও ক্লাবের মালিকের আর্থিক সামর্থ্যের বিষয়। তালিকার শীর্ষ ১০০ ক্লাবের একত্রে সম্পদের পরিমাণ ৫৭১ বিলিয়ন ডলার। সকারেক্স-এর মার্কেটিং ডিরেক্টর ডেভিড রাইট বলেন, অধুনা ক্লাব ফুটবলে আর্থিক ছবিটা কিভাবে বদলে যাচ্ছে তার একটা ছবি দেখাতে চেয়েছি আমরা।
২০০৮-এ ম্যানচেস্টার সিটি ক্লাব কিনে নেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুবরাজ সুলতান মনসুর। আর ধনকুবের এ মালিক ক্লাবের পিছনে ঢালছেন কাড়ি কাড়ি অর্থ। গত বছর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দায়িত্ব নেযার পর খেলোয়াড় ক্রয়ে ৪০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন কোচ হোসে মরিনহো। তবে সম্প্রতি ম্যানইউর এ পর্তুগিজ কোচ বলেন, অর্থের অঙ্কটা তার দলের জন্য যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, আমার ক্লাব হিসেবে অবশ্যই বড়। তবে দল হিসেবে আমরা এবার বড় নই। ইতালির এসি মিলানও বড় ক্লাব। তবে বড় ক্লাব ও বড় দলের মধ্যে পার্থক্য আছে। স্প্যানিশ লা লিগার পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে এফসি বার্সেলোনা। তাদের দলে রয়েছে বিশ্বসেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি। তালিকায় স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনা রয়েছে ১৩তম স্থানে। এবারের দলবদলে রেকর্ড ১৯৮ মিলিয়ন পাউন্ডে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমারকে কিনে নেয় কাতারি মালিকানাধীন ফরাসি ফুটবল ক্লাব প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)। সকারেক্সের বিচারে বিশ্বের তৃতীয় সেরা ধনী ক্লাবের মর্যাদা পিএসজির।
গত দুই মৌসুমে দলবদলে কাড়ি কাড়ি অর্থ ব্যয় করেছে চাইনিজ সুপার লীগের ৯ ক্লাব। অস্কার, কার্লোস তেভেজের মতো সেরা ফুটবলারও পাড়ি দেন চীনে। সকারেক্স-এর শীর্ষ ১০০ তালিকায় নাম রয়েছে চীনের ৯টি ক্লাবেরই। শীর্ষ-১০০ তালিকায় স্পেনের ৯টি ক্লাবের নাম রয়েছে। আর মোট সংখ্যায় চীনের চেয়ে পিছিয়ে জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালির মতো ফুটবলের পাওয়ার হাউজ দেশগুলো। রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, বায়ার্ন মিউনিখের মতো শীর্ষ ক্লাবকে পেছনে ফেলে তালিকার চতুর্থ স্থানে শোভা পাচ্ছে গুয়াংঝু এভারগ্রান্ডের নাম। গত বছর ৬৩ মিলিয়ন পাউন্ডের ট্রান্সফারে ইংল্যান্ডের চেলসি থেকে চীনের ক্লাব শাংহাই এসআইপিজি’তে পাড়ি দেন ব্রাজিলিয়ান তারকা অস্কার। তালিকার শীর্ষ ৩০-এ স্থান পেয়েছে দ্বিতীয় সর্বাধিক যুক্তরাষ্ট্রের ৫টি ক্লাব। ব্যবসায়িক দৃঢ়তা, উচ্চমূল্যের সম্পদ ও শক্তিশালী বিনোয়োগের কারণেই মার্কিন ক্লাবগুলোর এমন উত্থান।
শীর্ষ ১০ ধনী ক্লাব
ক্লাব- পয়েন্ট : ম্যানচেস্টার সিটি (ইংল্যান্ড)-৪৮৮৩, আর্সেনাল (ইংল্যান্ড)-৪৫৫৯, প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (ফ্রান্স)-৪১২৮, গুয়াংঝু এভারগ্রান্ড (চীন)-৩৪২৩, টটেনহ্যাম হটস্পার (ইংল্যান্ড)-২৫৯১, রিয়াল মাদ্রিদ (স্পেন)-২৫৭৯, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (ইংল্যান্ড)- ২৫৭৯, জুভেন্টাস (ইতালি)-২২৬০, চেলসি (ইংল্যান্ড)-২০৭৩, বায়ার্ন মিউনিখ-২৮০৬।