ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের কাছে হার

0
21
টেষ্ট ম্যাচে বাংলাদেশকে হারিয়ে জিম্বাবুইয়ের উল্লাস। ছবি- রেজা রুবেল

স্পোর্টস ডেস্ক :
সিলেটে রেকর্ড গড়া হল না বাংলাদেশের। দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটিং ধস। ৩২১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দেড় দিন বাকি থাকতেই ১৬৯ রানে গুটিয়ে গেছে টাইগারদের ইনিংস। স্বাগতিকদের ১৫১ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে পাঁচ বছর পর সাদা পোশাকে জয়ের মুখ দেখেছে জিম্বাবুয়ে।
১৭ বছর পর ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের কাছে হারল বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০০১ সালে চট্ট্রগামে ৮ উইকেটে হেরেছিল তারা। ২০১৩ সালে হারারেতে ৩৩৫ রানের হারের পর গত পাঁচ বছরে এই প্রথম জিম্বাবুয়ের কাছে টেস্টে পরাজিত হল টাইগাররা। হোম এবং অ্যাওয়ে ম্যাচ মিলিয়ে রানের ব্যবধানে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এটি তৃতীয় বড় হার।
৩২১ রানের রেকর্ড লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তৃতীয় দিন শেষে ২৬ রান যোগ করে ড্রেসিংরুমে ফিরেছিলেন ওপেনার ইমরুল-লিটন। আজ প্রথম আধ-ঘন্টা নির্বিঘ্নেই পার করে দেন এই দুজন। তবে স্কোর বোর্ডে আর ৩০ রান যোগ করার পর রাজার বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে মিস করেন লিটন। আম্পায়ার রিচার্ড কাটেলবরো প্রথমে আউট দেননি। পরে হ্যামিল্টন মাসাকাদজা রিভিউ নিলে দেখা যায় বল আঘাত হেনেছে স্ট্যাম্পে। সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে লিটনকে (২৩) প্যাভিলিয়নের পথ দেখান কাটেলবরো।
১১ রান বাদে কাইল জারভিসের বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে ফেরেন মুমিনুল হক (৯)।৬৭ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। আশা জাগিয়ে দলীয় ৮৩ রানে ফিরে যান ইমরুলও (৪৩)। সিকান্দার রাজার বলে সুইপ করতে গিয়েছিলেন তিনি। পরমুহূর্তেই বুঝতে পারলেন বল তার ব্যাটে নয় লেগেছে লেগস্ট্যাম্পে। জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটারদের উচ্ছ্বাস তখন বাধনহারা। সবচেয়ে ভালো খেলতে থাকা ব্যাটসম্যানটাকেই যে আউট করে দিয়েছেন তারা।
ইমরুলকে ফেরায় মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই তিন উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে বাংলাদেশ। সেখান থেকে কোথায় দলকে টেনে তুলবেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ, উল্টো ১০২ রানে আউট হয়ে আরও বিপদে ফেলে আসেন। সাকিবের অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশের নেতৃত্বভার পড়েছে তার কাঁধে। কিন্তু দুই ইনিংসেই ব্যাট হাতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন রিয়াদ। প্রথম ইনিংসে শূণ্য রান, দ্বিতীয় ইনিংসে করেছেন ১৬।
মধ্যাহ্ন বিরতির আগের বলে মাভুতার বলে মারতে গিয়ে রাজার হাতে ক্যাচ দিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ১১১ রানে বাংলাদেশ হারালো পঞ্চম উইকেট। এই ম্যাচে হার এড়াতে অসম্ভব কিছু করতে হত টাইগারদের। কিন্তু সিলেটে অসম্ভব কিছু ঘটেও নি। মধ্যাহ্ন বিরতির পর সেই পুরনো চেহারাতেই দেখা যায় স্বাগতিকদের।
শান্ত আর মুশফিক উভয়েই আনলাকি থার্টিনে কাটা পড়েন। তাদের উইকেট দুটো নিয়েছেন লেগস্পিনার মাভুতা। এরপর মেহেদী মিরাজ ফিরে গেলেন ৭ রান করে। এবারও ঘাতক ওই মাভুতা। এরপর তাইজুল আর অপু শুন্য রানে ফিরলে হারটা একেবারে নিশ্চিত হয়ে যায়। যা লড়ার একটু লড়েছেন আরিফুল হক। প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ছিলেন ৪১ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসেও ৩৮ রান করেছেন অভিষিক্ত এই ক্রিকেটার। জিম্বাবুয়ের হয়ে মাভুতা ৪টি, রাজা ৩টি আর ওয়েলিংটন মাসাকাদজার নিয়েছেন ২টি উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর-
জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংস: ১১৭.৩ ওভারে ২৮২
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৫১ ওভারে ১৪৩
জিম্বাবুয়ে ২য় ইনিংস: ৬৫.৪ ওভারে ১৮১ (লিড ১৩৯)
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৬১.১ ওভারে ১৬৯ (টার্গেট ৩২১)
(লিটন কুমার ২৩, ইমরুল কায়েস ৪৩, মুমিনুল হক ৯, মাহমুউল্লাহ রিয়াদ ১৬, নাজমুল হাসান শান্ত ১৩,মুশফিকুর রহিম ১৩, আরিফুল হক ৩৮, মেহেদী হাসান মিরাজ ৭ ; মাভুতা ৪/২১, সিকান্দার রাজা ৩/৪১, ওয়েলিংটন ২/৩৩)
ফল: জিম্বাবুয়ে ১৫১ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: শন উইলিয়ামস