শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তায় রাসূলুল্লাহ (স.) এর পদক্ষেপ

0
9

॥ মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান ॥

বর্তমান পৃথিবীতে শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সামাজিক ন্যায়বিচার’ প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত প্রয়োজন। ‘সামাজিক ন্যায়বিচার’-এর মূল লক্ষ্য হলো প্রত্যেককে তার হক বা প্রাপ্য অংশ পরিপূর্ণভাবে দিয়ে দেয়া। এ ক্ষেত্রে ধনী-গরীব, উঁচু-নিচু, সাদা-কালো আরব-অনারব, সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু, দল-মত নির্বিশেষে কেউ কোন রকম অন্যায়-অবিচার ও জুলুম-নির্যাতনের শিকার হবে না। পৃথিবীতে নবী ও রাসূলগণের প্রধান কাজ ছিল আল্লাহর বিধানের আলোকে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক এক শান্তিময় সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক রাসূলুল্লাহ (স.) সামাজিক ন্যায়বিচারের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। আল্লাহর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা, সম্পদের সুষম বন্টন, জীবন, সম্পদ ও সম্মানের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা, সমাজের সকলের মাঝে প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি কার্যাবলির মাধ্যমে তিনি এক শান্তিময় সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। এর জন্য তিনি শরীয়তের বিধান যেমন কার্যকর করেন, তেমনি সকলকে আখিরাতমুখী চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করেন। আখিরাতের কঠিন জবাবদিহিতার ব্যাপারে সকলকে সতর্ক করেন। এভাবে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি এমন এক শান্তিময় সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন, যার দৃষ্টান্ত পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। আধুনিক বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে আমাদের অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (স.) এর সামাজিক ন্যায়বিচারের দিকে লক্ষ্য করতে হবে এবং এর থেকে শিক্ষা নিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না হলে মানবরচিত মতবাদের মাধ্যমে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা কখনো সম্ভব না। এ সব বিষয়ে আলোচনাই বক্ষ্যমান প্রবন্ধের মূল প্রতিপাদ্য বিয়য়।
বিশ্ব-পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, চারিদিকে অশান্তি ও নৈরাজ্যকর পরিবেশ বিরাজমান। এ অশান্তি ও বিশৃঙ্খলার অন্যতম কারণ মানুষের সার্বিক জীবন ব্যবস্থায় ন্যায়বিচারের অভাব। মুসলিম বিশ্ব এবং তথাকথিত প্রগতিশীল পাশ্চাত্য সমাজ কেউই এ অশান্তি থেকে মুক্ত নয়। বিশ্ব-মুসলিম আজ একদিকে যেমন দ্বীনের সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত, অন্যদিকে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা, সামাজিক আচার-আচরণ, রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান এবং পরিবর্তিত বিশ্ব-পরিস্থিতির মোকাবেলা করাসহ দুনিয়াবী বহুক্ষেত্রে তারা ইসলামের পূর্ণ অনুসরণ করতে ব্যর্থ, সামাজিক নিরাপত্তা, সাধারণ সামগ্রীর সহজলভ্যতা এবং জাতি, গোত্র নির্বিশেষে সকলের মাঝে সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা এক কথায় ‘সামাজিক ন্যায়চিার’ বলতে সমাজের এমন অবস্থাকে বুঝায়, যেখানে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, গোত্র, জাতি, রাষ্ট্র ও বর্ণভেদে প্রত্যেক মানুষ তার পূর্ণ অধিকার ভোগ করবে। সমাজের সার্বিক কল্যাণের জন্য রাষ্ট্র প্রত্যেককে যোগ্যতা অনুযায়ী তার প্রাপ্য অংশ প্রদান করবে। এক্ষেত্রে সে কোন ধরনের জুলুমের শিকার হবে না।
এটি ‘সামাজিক ন্যায়বিচার’ ধারণার সামগ্রিক রূপ। আর ইসলামে এটিকে আরো ব্যাপক পরিসরে ব্যাখ্যা করা হয়। এর মধ্যে তাওহীদ, সৃষ্টিজগৎ এবং মানুষের সার্বিক জীবন সম্পৃক্ত। কারণ ইসলাম একটি অবিভাজ্য পূর্ণাঙ্গ জীবন দর্শন। এর প্রত্যেকটি শাখা-প্রশাখা একটির সাথে অপরটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। স্রষ্টা, সৃষ্টিজগৎ, মানুষ, ব্যক্তি, সমষ্টি, রাষ্ট্র-সব কিছুই সামাজিক ন্যায়বিচারের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তা’য়ালা সৃষ্টিজগৎ রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা করেন। সৃষ্টি জগৎ সুন্দররূপে পরিচালনা করার জন্য প্রত্যেকটি বস্তুর একটি পরিমাপ নির্ধারণ করেছেন। আল্লাহ বলেছেন আমি সবকিছু নির্ধারিত পরিমাপে সৃষ্টি করেছি। আর আল্লাহর এই সৃষ্টির প্রতিটি জিনিস একটির সাথে আরেকটি নিগূঢ়ভাবে সম্পর্কযুক্ত। যখন পরস্পরের এই সম্পর্কে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় তখন সৃষ্টি জগতেও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সকলের পারস্পরিক সম্পর্কে যখন ন্যায়বিচারের ঘাটতি হয় তখন সৃষ্টিজগৎ অশান্তি ও নৈরাজ্যে ভরে যায়। এজন্য ইসলামে সামাজিক ন্যায়বিচার বলতে এটাই বুঝানো হয়েছে যে, প্রত্যেককে তার অধিকার পরিপূর্ণভাবে দিয়ে দেয়া এবং এর মাধ্যমে সমগ্র সৃষ্টিজগতের কল্যাণ নিশ্চিত করা।
শান্তি প্রতিষ্ঠায় সামাজিক ন্যায়বিচার-এর গুরুত্ব ঃ আগেই বলা হয়েছে, ইসলামে সামাজিক ন্যায়বিচারের লক্ষ্যই হলো প্রত্যেককে তার অধিকার পরিপূর্ণভাবে দিয়ে দেয়া। সমাজের প্রত্যেকে যদি তার প্রাপ্য অংশ পায়, তবে সেখানে কোন রকম ঝগড়া-ফাসাদ, অশান্তি ও হানাহানি থাকে না। এ কারণে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সামাজিক ন্যায়বিচারের গুরুত্ব অপরিসীম। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়। পৃথিবীতে সবচেয়ে শান্তিময় সমাজ ছিল নবী-রাসূলগণ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সমাজ। আর তাঁদের প্রতিষ্ঠিত সমাজের প্রধান ভিত্তিই ছিল প্রতিটি ক্ষেত্রে ন্যায় ও ইনসাফ কায়েম করা। এটা তাঁদের দায়িত্ব ছিল। আর এ দায়িত্ব নির্ধারণ করেছিলেন স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন’। আল্লাহ তা’য়ালা আল-কুরআনের বহু স্থানে নবী ও রাসূলগণকে সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, আমি আমার রাসূলগণকে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলিসহ পাঠিয়েছি এবং তাঁদের ওপর কিতাব ও মানদন্ড নাযিল করেছি, যাতে মানবজাতি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করে। আমি লোহাও নাযিল করেছি, যার মধ্যে প্রচন্ড শক্তি ও মানুষের অনেক কল্যাণ আছে, এ জন্য যে, আল্লাহ জানতে চান, কে না দেখেও তাঁকে ও তাঁর রাসূলদেরকে সাহয্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ শক্তিধর, পরাক্রমশালী। সামাজিক ন্যয়বিচার’ প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব দিয়ে আল্লাহ তা’য়ালা আরো বলেন-নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সৎকাজ ও আত্মীয়-স্বজনকে দান করার আদেশ দেন এবং অশ্লীলতা, অসৎকাজ ও অবাধ্যতা নিষেধ করেন। তিনি তোমাদেরকে সুপদেশ দেন, যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর। এছাড়া যারা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে না তাদেরকে আল-কুরআন কাফির হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
আল-কুরআনে আরো বলা হয়েছে- ওহে তোমরা যারা ঈমান এনেছো! আল্লাহর জন্য ন্যায়ের সাক্ষীরূপে তোমরা অবিচল থেকো। কোন সম্প্রদায়ের শক্রতা যেন তোমাদেককে ন্যায়বিচার না করতে প্ররোচিত না করে। তোমরা ন্যায়বিচার করবে। এটা তাক্বওয়ার অধিকতর কাছাকাছি। আর আল্লাহকে ভয় করো। তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ নিশ্চয়ই তার খবর রাখেন। এ আয়াতের তাফসীরে ‘আল্লামা হাফিয ইবন কাছীর রহ. বলেন, আল্লাহ তা’য়ালা তাঁর মুমিন বান্দাদের ন্যায়ে অবিচল থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ ন্যায়বিচার করার নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং তারা ন্যায়বিচার থেকে বিচ্যুত হয়ে ডানে বা বামে যেতে পারবে না। তাদেরকে আল্লাহর বিধান বান্তবায়নের ক্ষেত্রে কোন নিন্দুকের নিন্দা প্রভাবিত করবে না। কোন বাধাদানকারী বিরত রাখতে পারবে না। আর তারা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য পরস্পর পরস্পরকে সাহায্যে-সহযোগিতা করবে। যে বান্দা তার ¯্রষ্টার হক পরিপূর্ণভাবে আদায় করে, মানসিক প্রশান্তিতে জীবন কাটানো তার জন্য অনেক সহজ হয়। পরিবারের প্রত্যেকে যদি অন্যের হক ঠিকমত আদায় করে, তাহলে সে পরিবার সুখ ও শান্তিতে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। একইভবে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রত্যেকে যদি অন্যের অধিকারের ব্যাপারে সচেতন থাকে, কেউ কাউকে যদি বঞ্চিত ও জুলুম না করে, তাহলে সে সমাজ ও রাষ্ট্র শান্তিময় সমাজ ও রাষ্ট্রে পরিণত হয়। আর এর বিপরীত হলে সেখানে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এ দিকে ইঙ্গিত করে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-মানুষের স্বহস্ত উপার্জনের দরুন জল-স্থলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে, ফলে তাদেরকে তাদের কিছু কৃতকর্মের স্বাদ আস্বাদন করানো হবে, যাতে তারা বিরত হয়। এ জন্য বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিধান অনুযায়ী ‘সামাজিক ন্যায়বিচার’ প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরী। আল্লাহ তা’য়ালা সমস্ত পৃথিবী পরিচালনা করেন। পৃথিবীর কল্যাণের জন্য তিনি সকল কিছুর সুন্দর ব্যবস্থাপনা করেন। তিনি বলেন-তিনি সব কিছুর ব্যবস্থাপনা করেন আর তাঁর আয়াতসমূহের বিস্তারিত বর্ণনা দেন। সুতরাং তাঁরই নির্ধারিত ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী পৃথিবী চললে সেখানে অবশ্যই শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে। এছাড়া মানব রচিত কোন পন্থায়, অন্যের উপর জুলুম করে, জোর করে অন্যের অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা কখনো সম্ভব নয়।
বর্তমান বিশ্বে শান্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার পরিস্থিতির স্বরূপ ঃ আজকের বিশ্ব-পরিস্থিতির দিকে তাকালে আমরা যে চিত্র দেখতে পাই তা সত্যিই হতাশাজনক। বিশ্বশান্তি আজ হুমকির মুখে। সামাজিক ন্যায়বিচার এখানে সুদূর পরাহত। জাহেলী যুগের মত ‘জোর যার মুল্লুক তার’ এই নীতিই যেন সারা বিশ্বে বিরাজমান। ব্যক্তি জীবন, সামাজিক জীবন, রাজনৈতিক জীবন, আন্তর্জাতিক অঙ্গন-সকল ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারের অনেক অভাব। অনেক মারাত্মক অপরাধী ক্ষমতার বলে শাস্তি থেকে মুক্তি পেয়ে যাচ্ছে। আবার দুর্বল হওয়ার কারণে লঘু অপরাধে অনেকে গুরুতর শাস্তি ভোগ করছে। এমনকি অনেক নিরাপরাধ ব্যক্তিকেও দেয়া হচ্ছে মারাত্মক শাস্তি। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো অপেক্ষাকৃত দুর্বল রাষ্ট্রের ওপর অন্যায় হস্তক্ষেপ করছে। তাদের চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাধ্য করছে। সহজে তা মেনে না নিলে শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে। এমনকি কখনো কখনো অন্যায়ভাবে তাদের উপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। মিথ্যা অজুহাতে গোটা দেশ ধ্বংস করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে মুসলিমদের ও মুসলিম দেশগুলোর অবস্থা আরো ভয়ানক। সারা পৃথিবীতে আজ তারা নানা জুলুম-নির্যাতনের শিকার। অশান্তি ও বিশৃঙ্খলায় তারা জর্জরিত। ইসলাম বিদ্বেষী সম্প্রদায় মুসলিম ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর ওপর নানামুখী নির্যাতন চালাচ্ছে। কোথাও তারা সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে, কোথাও আবার পরোক্ষভাবে মদদ দিচ্ছে। কোথাও আবার প্ররোচনা দিয়ে মুসলিমদের বিভিন্ন দল ও উপদলে বিভক্ত করছে। এর মধ্যে কোন এক দলকে অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে অন্য দলের ওপর লেলিয়ে দিচ্ছে। অবশ্য মুসলিম সম্প্রদায়ও এক্ষেত্রে কম দোষী নয়। তারা আজ ইসলামের শিক্ষা থেকে বহু দূরে অবস্থান করছে। সঠিক ইসলাম থেকে তারা বিচ্যুত। তারা নিজেদের মধ্যে মারামারি, হানাহানিতে লিপ্ত। আল-কুরআনের এই শিক্ষা তারা নিজেদের সমাজে বাস্তবায়ন করতে পারছে না। আল্লাহ বলেছেন-যদি মুমিনদের দুটি দল মারামারি করে তবে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দিও। অতঃপর যদি তাদের এক দল অন্য দলের উপর বাড়াবাড়ি করে তাহলে যে দল বাড়াবাড়ি করবে তোমরা তার বিরুদ্ধে লড়বে, যতক্ষণ না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। যদি ফিরে আসে তোমরা উভয়ের মাঝে ন্যায়ের সাথে মীমাংসা করে দিবে এবং সুবিচার করবে। আল্লাহ তো সুবিচারকারীদেরকেই ভালবাসেন। এ কারণে বর্তমানে বিশ্বে দেখা যায়, বেশিরভাগ অন্যায়-অবিচার, জুলুম-নির্যাতন, অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সংঘটিত হচ্ছে হয় সংখ্যালঘু মুসলিমদের উপর, না হয় সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম শাসিত এলাকায়। আমরা যদি মিয়ানমারের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাই মিয়ানমারের সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ সম্প্রদায় সংখালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে জাতিগত গুদ্ধি অভিযানের নামে গত পঞ্চাশ বছর ধরে অমানবিক জুলুম-নির্যাতন পরিচালনা করছে। মুসলিমদের ব্যাপারে তারা যেন গৌতম বুদ্ধের বাণী ‘প্রাণী হত্যা মহা পাপ’ এবং জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক’ ভুলে গেছে। তারা সেখানে মুসলিম নারী, পুরুষ, শিশু, যুবক, বৃদ্ধসহ সকল মুসলিমদের নির্বিচারে হত্যা করছে। ধ্বংস করছে তাদের ঘর-বাড়ী। অন্যায়ভাবে তাদের সম্পদ দখল করে নিচ্ছে। সামাজিক ন্যায়বিচার বলতে তেমন কিছু যেন অবশিষ্ট নেই। ক্ষমতা থাকলে সবকিছু করা বৈধ মনে করা হচ্ছে। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্ব-নিয়ন্ত্রক গোষ্ঠীসমূহ সেখানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। জোর করে সেখানে সংখ্যালঘু মুসলিমদের উৎখাত করা হচ্ছে। (অসমাপ্ত)