ইন্টারনেট ব্যবহার : ইমান, আখলাক ও বিবেকের পরীক্ষা

0
53

॥ মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান ॥

বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে সাড়া জাগানো আলোচিত বিষয় হচ্ছে ইন্টারনেট। সরকারি-বেসরকারী অফিস-আদালতে, ব্যবসায়-বাণিজ্যে, পড়া-লেখায়, গবেষণা, ছবি, ভিডিও, ফেসবুক, টুইটার, ই-মেইলসহ নানা কাজে এর ব্যবহার অতি প্রয়োজনীয় হয়ে দেখা দিয়েছে। এটি নিজে কোন মন্দ বস্তু নয়। ব্যবহারকারী একে যেভাবে ব্যবহার করে এটি সেভাবেই ব্যবহৃত হয়। যেমন, তরবারী, এটি স্বভাবতই একটি মন্দ বস্তু নয়; তবে এটিকে ভালো বা মন্দ দুকাজে বা উপায়ে ব্যবহার করা যায়। একজন নতুন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী অনায়াসেই বা অজান্তেই এর এমন সাইটগুলোতে প্রবেশের পথ জানতে পারে, আবার কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে প্রবৃত্তির তাড়নায় এর অপব্যবহার করতে পারে, যা তার জন্য নৈতিকতা বিরোধী ও ক্ষতিকর। তাই একজন মুসলিম ব্যবহারকারী ইসলামের দিক নির্দেশনা জেনে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে এর ভালো দিকগুলোর দ্বারা উপকৃত হতে পারেন। বর্তমান সময়ে সুউচ্চ অট্টালিকার দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে দাওয়াতী কাজ করা খুবই কষ্টসাধ্য। এমতাবস্তায় ইন্টারনেট হতে পারে দাওয়াতী কাজের এক বিশ্বমঞ্চ। যার মাধ্যমে একজন দা‘ঈর বক্তব্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে দিতে পারেন বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। আলোচ্য প্রবন্ধে ইন্টানেট পরিচিত, এর ব্যবহারের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা, সদ্ব্যবহারের সুফল, অপব্যবহারের কুফল, তা থেকে বাঁচার উপায় ও কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।
ইন্টারনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিডিয়া বা মাধ্যম। মিডিয়াকে বলা হয় সমাজের আয়না। এটি দু ধরনের, প্রিন্ট মিডিয়া (খবরের কাগজ, ম্যাগাজিন ইত্যাদি) ও ইলেক্ট্রনিক বা ওয়েব মিডিয়া (টেলিভিশন, ইন্টারনেট ইত্যাদি)। টেলিফোন, রেডিও, টেলিবিশন, পত্র-পত্রিকা, ম্যাগাজিন, মোবাইল, কম্পিউটারের সাথে যুক্ত হয়েছে বর্তমান প্রযুক্তির সর্বাধিক উন্নত সংস্করণ ইন্টারনেট। এর মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্রয়-বিক্রয়, গবেষণা, পত্র-পত্রিকা পাঠ, মুহূর্তেই এক দেশ থেকে অন্য দেশে বা কোন স্থানে তথ্য লেনদেন ও যোগাযোগ করা যায় এবং হিসাব-নিকাশ থেকে শুরু করে এমন কোন কাজ নেই যাতে এর ব্যবহার নেই। এটি ব্যবহার করছে ছাত্র-শিক্ষক, নারী-পুরুষ, অফিসার-কর্মচারী, ছোট-বড় সকলেই। একজন মুসলিমকে তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক রাষ্ট্রীয় জীবনে পথ চলার জন্য হালাল-হারাম যাচাই বাছাই করে চলা আবশ্যক। এটি প্রত্যাশিত যে, প্রতিটি সচেতন মুসলিম ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হারাম পথ পরিহার করে যাবতীয় কাজ পরিচালনার করবেন; পাশাপাশি এর মাধ্যমে নিজেকে একজন দা‘ঈ তথা আল্লাহর পথে আহ্বানকারী হিসেবে মানুষকে আহ্বান করবেন।
ইন্টারনেট পরিচিতি : ইন্টারনেট অর্থ আন্তজাল। এটিকে নেটওয়ার্ক সমূহের নেটওয়ার্ক বলা হয়। ইন্টারনেট সারাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা অনেকগুলো কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এমন একটি বৈশ্বিক যোগাযাগ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে বিশ্বের নানা প্রান্তরে কম্পিউটার ব্যবহারকারীর সাথে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় নানা তথ্য সংগ্রহ ও বিনিময় করা যায়। ‘‘মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, ব্যবহারিক কম্পিউটার শব্দকোষ, ঢাকা: বাংলা একাডেমী, প্রথম প্রকাশ, ফেব্র“য়ারী ২০১৩, পৃ. ১১০’’ ১৯৬০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ Advanced Research Projects Agency (ARPA)নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয়, যার উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, যাতে যুদ্ধের সময়েও এক সামরিক ঘাঁটি থেকে অপর ঘাঁটির সাথে যোগাযোগ অবিচ্ছিন্ন থাকে। এই নেটওয়ার্ককে বলা হয় আরাপানেট (ARPANET)| এখান থেকেই এর যাত্রা শুরু হয়। ‘‘প্রাগুক্ত, পৃ. ১১১’’ ইন্টারনেটের মূলে রয়েছে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব  (WWW), আর এর জনক টিম বার্নাস লী। www.internet wikipedia. Encyclopedia. 23/05/2015 ভিনসেন্ট জিগনা ও মাইক পেপার ইন্টারনেটের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুরে ধরেছেন। “তাঁর মতে, The Internet is a global system of interconnected computer networks that use the standard Internet protocol suite (TCP/IP) to link several billion devices worldwide. It is an international network of networks that consists of million of private, public, academic, business, and government packet switched networks, linked by a broad array of electronic, wireeless, and optical networking technologies.’’ [The Internet Explained, Vincent Zegna & Mike Peper, Sonet Digital, November 2005, Pages 1-7]’’ মূলত ইন্টারনেটওয়ার্ক  (internetwork) এর সংক্ষিপ্ত রূপ হল ইন্টারনেট। বিশেষ গেটওয়ে বা রাউটারের মাধ্যমে কম্পিউটার নেটওয়ার্কগুলো একে অপরের সাথে সংযোগ করার মাধ্যমে এটি গঠিত হয়। ইন্টারনেটকে অনেক সময় সংক্ষেপে নেট বলা হয়। 

 “www.internet wikipedia. Encyclopedia. 23/05/2015.’’ইন্টারনেটের ব্যবহার : ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন হয় কম্পিউটার, মডেম, ইন্টার সংযোগ, সফটওয়্যার ইত্যাদি। এটি অনলাইন ও অফলাইনের মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।“মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, প্রাগুক্ত, পৃ: ১৫৮-১৫৯”। ইন্টারনেট বিশ্বব্যাপী মানুষকে ফলপ্রসুভাবে এবং সূলভে একে অন্যের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম করেছে। সনাতনী প্রচার মাধ্যমসমূহ যেমন রেডিও, টেলিভিশনের মতই ইন্টারনেটের কোন কেন্দ্রীভূত সরবরাহ পদ্ধতি নেই। তার পরিবর্তে যে কোন ব্যক্তি যার ইন্টারনেট সংযুক্তি আছে সে সরাসরি অন্র যে কোন ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ রক্ষ করতে, অন্যের জন্য তথ্য সরবরাহ করতে, অন্যের দেয়া তথ্য সংগ্রহ করতে অথবা উৎপাদিত পণ্যসমূহ ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে। তথ্য খোঁজার পাতার মাধ্যমে ইন্টারনেটে প্রবেশ করতে হয়। আর এটি হচ্ছে একটি প্রোগ্রাম যেমন মাইক্রোসফট কর্পোরেশনের ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার, ফায়ারফক্স, অপেরা, গুগল যা কম্পিউটারের তথ্যাদির পৃষ্ঠা, চিত্র, রেখাচিত্র, শব্দ, চলমান ছবি ও মডেলসমূহ উপস্থাপন করে। শুরুতে এর ব্যবহার খুব সীমিত থাকলেও বর্তমানে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব সার্ভিস, ই-মেইল সার্ভিস, এফটিপি বা ফাইল ট্রান্সফার প্রটোকল, টেলনেট, রিমোট বা ইন্টারনেট প্রিন্টিং, রিমোট স্টোরেজ, নিইজ গ্র“প, ভিওটি বা ভয়েস ওভার টেলিফোন, ইনস্ট্যান্ট মেসেজ, ভিডিও কনফারেন্সিং, ইন্টারনেট চ্যাটিং প্রভৃতি কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
৬ জুন ১৯৯৬ সাল থেকে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক  (ISN)এর মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথম ইন্টারনেট সেবার কাজ শুরু হয়। “প্রাগুক্ত, পৃ: ১১১; [দ্র: মোস্তাফা জব্বার, কম্পিউটার অভিধান, ঢাকা: অবসর প্রকাশনা সংস্থা, প্রথম প্রকাশ, ১৯৯৬; বাংলা একাডেমী বিজ্ঞানকোষ, ঢাকা: বাংলা একাডেমী, ১৯৯৮।” যুক্তরাষ্ট্রের পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক সমীক্ষার তথ্য মতে, বাংলাদেশের ১১ শতাংশ মানুষ অন্তত একবার হলেও ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। ভারতে ২০ শতাংশ, পাকিস্তানে ৮ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া ২৪ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে সবচাইতে বেশি ৮৭ শতাংশ, এরপরই আছে রাশিয়া ৭৩ শতাংশ। বাংলাদেশী ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৬২% চাকরি খোঁজেন ও আবেদন পাঠান, পরিবার ও বন্ধুদের সাথে যুক্ত থাকেন ৬% এর বেশি। সরকারি তথ্য খোঁজেন ২৬%, স্বাস্থ্যসেবার তথ্য খোঁজেন ২৮%, রাজনৈতিক তথ্যের খোঁজ করেন ৫৬%, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য ১৩%, পণ্য কেনা-বেচার হার ২৩%, পাঠ দানের হার মাত্র ৭%। “জাহিদ আব্দুল্লাহ, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের হালচাল, http://www.ntvbd.com/bangladesh/4275.২০ মার্চ ২০১৫।”
ইন্টারনেট ব্যবহারের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা: আজকের বিশ্বে ইন্টারনেট ব্যবহারের গুরুত্ব অপরিসীম। সংবাদপত্র পাঠ, তথ্য সংগ্রহ ও আদান-প্রদান, যোগযোগ, হিসাব সংরক্ষণ, ফাইল ও ডাটাবেজ সংরক্ষণ, শিক্ষা ও গবেষণার কাজ, কেনা-কাটা, ব্যবসায়-বাণিজ্য, সামাজিক যোগাযোগ, বিনোদন, লাইভ ভিডিও কনফারেন্স, কুরআন-হাদীস চর্চা, সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজের নিষেধ, ইসলামের দিকে দাওয়াত দান, ইসলামের শত্র“দের জবাব দান, আল-মাকতাবাতুশ শামিলার ব্যবহার, অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম, নৈতিক চরিত্র গঠন ও উপকারী জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসারসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। যে কাজ শেষ করতে অনেকগুলো মানুষের প্রয়োজন হয়, যে কাজ করতে অনেক সময় অর্থ ব্যয় করতে হয় তা স্বল্প সময় ও স্বল্প অর্থ ব্যয়ে অতি দ্রুততার সাথে নিপুণভাবে শেষ করা যায়। তাই দিন দিন ইন্টারনেটের উপর মানুষের নির্ভরতা বাড়ছে।
আধুনিক মালয়েশিয়ার স্থাপিত ড. মাহাথির মুহাম্মদ বলেছেন, আমরা ইন্টারটের মোকাবেলা করতে পারি ইন্টারনেটের সাহায্যে, কম্পিউটারের মোকাবেলায় কম্পিউটার, কলমের মোকাবিলায় করতে পারি কলমের সাহায্যে। আমরা উটের পিঠে চড়ে ল্যান্ডক্রুজারের সঙ্গে প্রতিযোগীতায় জয়ী হতে পারি না। “বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরডটকম, মার্চ ১৫, ২০১৪; সাপ্তাহিক সোনারবাংলা, ফেব্র“য়ারী ১৩,২০১৫।”
তাই বিশ্বায়নের এ যুগে মুসলিমদরে দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন করা প্রয়োজন। এমনিভাবে মুসলিম ও মুসলিম উম্মাহর কাছে ইসলাম প্রচার ও প্রসারের জন্য ইন্টারনেট হতে পারে একটি অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। এমতাবস্তায় ইসলাম নিয়ে যারা ভাবেন, ইসলামের প্রসারই যাদের কাম্য ও কর্ম, তাদের হাত গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না। ইসলাম প্রচারে ইন্টারনেটকে কাজে লাগানো এখন সময়ের দাবি। এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কর্ম সম্পদানের এক যুযোপযোগী মাধ্যম হয়ে দাড়িয়েছে। এর ব্যবহারের মাধ্যমে মুসলিম ইন্টারনেট ব্যবহারকারীগণ মানুষকে ভালো কাজের প্রতি আদশে এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান পৌছাতে পারে। যেহেতু উম্মতে মুহাম্মদীকে শ্রেষ্ট্র জাতি হিসেবে আখ্যায়িত করে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করা হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে, তোমরা শ্রেষ্ঠ জাতি, তোমাদেরকে মানব কল্যাণের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। তোমরা ভালো কাজে আদেশ করবে এবং মন্দ কাজে নিষেধ করবে। “আল-কুরআন, ৩:১১০।”
আরো ইরশাদ হচ্ছে, তিনিই উম্মীদের নিকট তাদের একজনকে রাসূল রূপে পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের নিকট তাঁরই আয়াতসমূহ পাঠ করবেন, তাদের পবিত্র করবেন এবং শিক্ষা দিবেন কিতাব ও হিকমত, ইত:পূর্বে তারা ঘোর গোমরাহীতে নিমজ্জিত ছিল। “আল-কুরআন, ৬২:২।”
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে হিদায়তের দিকে আহ্বান করে, এই হিদায়তের যত অনুসারী হবে তাদের প্রতিদানের সমতুল্য সে পাবে। তবে তাদের (অনুসারীগণের) প্রতিদানে কোন সংকোচ করা হবে না। যে গুমরাহীর কাউকে আহ্বান জানাবে তার উপর এর অনুসারীদের গুনাহও আপতিত হবে। এতে তাদের গুনাহে কোন সংকোচ করা হবে না। “ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, অধ্যায়: ইলম, পরিচ্ছেদ: মান সান্না সুন্নাতান হাসানাতান, মুখতাসারু সহীহ মুসলিম, কুয়েত: ১৯৬৯, খ.১, পৃ: ১৩৬, হাদীস নং- ৬৯৮০।” তিনি আরো বলেন, যে কেউ কোন অসৎ কিছু দেখবে, তা যেন তার হাত (শক্তি প্রয়োগ) দ্বারা প্রতিহত করে, অত:পর এতে সামর্থ্য না থাকলে মৌখিকভাবে প্রতিহত করবে, এতেও সক্ষম না হলে, অন্তরের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করবে। আর এটি দুর্বলতার ঈমানের পর্যায়ে বটে। “ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, অধ্যায়: ঈমান, পরিচ্ছেদ: বায়ানু আন্না আননাহয়ি আনিল মুনকার মিনাল ঈমান ওয়া আন্নাল ঈমান আয়াযীদু ওয়া ইয়ানকুসু, খ.১, পৃ:১৬, হাদীন নং-৪৯।”
এসব আয়াত ও হাদীসের দ্বারা বোঝা যায় যে, মানুষকে ভালো কাজের প্রতি উৎসাহিত এবং মন্দ কাজের প্রতি নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষকে কুরআন-সুন্নাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়ার পাশাপাশি এ ভালো দিকগুলো গ্রহণ ও ক্ষতিকর দিকগুলো বর্জন করার আহ্বান পৌছে দেয়া যায়। ইন্টারনেটের মাধ্যমে এর অপব্যবহারকারীদের সর্তক করা যায় এবং এর ব্যবহারের ক্ষতিকর দিকগুলো প্রচার করলে অপব্যবহারকারীগণ আশু ক্ষতিকর হাত থেকে সহজেই বাঁচতে পারবে।
আগে সমাজ সংস্কারকগণ বাজারে, মসজিদে ও বিভিন্ন লোক সমাগমস্থলে গিয়ে মানুষকে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিতেন। কিন্তু তথ্য প্রযুক্তির এ উৎকর্ষের যুগে একজন দা‘ঈ ঘরে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে দাওয়াত পৌছাতে পারেন কোটি কোটি লোকের দুয়ারে। ইতোমধ্যে বিশ্বে মুসলমানগণ এর মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়েবসাইট খুলে ইসলামী প্রোগ্রাম প্রচারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে পাশ্চাত্যের অনেকেই ইসলাম সম্পর্কে জানতে সক্ষম হচ্ছে এবং অনেকে ইসলাম গ্রহণ করছে। এককথায় বিশ্বকে এক কক্ষে নিয়ে আসার মাধ্যম হলো ইন্টারনেট। এর মাধ্যমে আরো ব্যাপক দাওয়াতী কাজের বিপুল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তাছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকুরি ও তথ্য অনুসন্ধানসহ মানুষের বিভিন্ন কাজে এর উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ফলে দিন দিন এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। (অসমাপ্ত)